বর্তমান সময়ে কৃষিতে টেকসই ও বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী বৃক্ষ চাষের গুরুত্ব দিন দিন বেড়ে চলেছে। একদিকে যেমন জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে পশুখাদ্য ও মাটির উর্বরতা রক্ষায় দরকার পরিবেশবান্ধব ও কম খরচের বিকল্প। এই প্রেক্ষাপটে ইপিল ইপিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। দ্রুত বর্ধনশীল, সহজ পরিচর্যাযোগ্য এবং বহু উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত এই গাছটি শুধু কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবানই করে না, বরং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণেও অবদান রাখে।
এই ব্লগ পোস্টে আমরা ইপিল ইপিল গাছের পরিচিতি, চাষ পদ্ধতি, জমি প্রস্তুতি, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই প্রতিকার এবং এর বহুমুখী ব্যবহারের বিস্তারিত আলোচনা করব, যা নতুন ও অভিজ্ঞ উভয় কৃষকের জন্যই অত্যন্ত সহায়ক হবে।
ইপিল ইপিল গাছের বৈজ্ঞানিক পরিচিতি
- ইংরেজি নাম: Leucaena
- বৈজ্ঞানিক নাম: Leucaena leucocephala
- পরিবার: Leguminosae
ইপিল ইপিল একটি ছোট থেকে মধ্যম আকারের দ্রুত বর্ধনশীল, চিরহরিৎ, বহুবর্ষজীবী এবং গভীরমূলী বৃক্ষ । এ গাছ সাধারণত ৩-১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। গাছের কচি শাখা মসৃণ, ধূসর-বাদামী কিন্তু বয়স্ক শাখা অমসৃণ এবং গাঢ় ধূসর-বাদামী বর্ণের হয়। গাছে সাদা বা ফিকে হলুদ রঙের ফুল ফোটে। ফল হয় লম্বাটে, চ্যাপ্টা, পাতলা পড যা সাধারণত ১১-১৯ সেমি পর্যন্ত লম্বা এবং বাদামী বর্ণের। প্রতি পডে ৮-১৮টি গাঢ় বাদামী শক্ত বীজ থাকে।
ইপিল ইপিল গাছের ব্যবহার
এই গাছ শুধু বৃক্ষ হিসেবে নয়, বরং একটি বহু কাজে ব্যবহৃত সম্পদ। নিচে এর বহুমুখী ব্যবহার উল্লেখ করা হলো:
- জ্বালানি কাঠ: এর ডালপালা খুব সহজে শুকায় এবং উচ্চ তাপ উৎপন্ন করে, ফলে চুল্লি বা রান্নার কাজে ভালো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।
- কৃষি যন্ত্রপাতি ও খুঁটি: গাছের কাঠ যথেষ্ট শক্ত হওয়ায় এটি বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রের হাতল, বাঁশের বিকল্প খুঁটি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা যায়।
- সবুজ সার: এর কচি পাতা ও ডাল টুকরো করে মাটিতে মিশিয়ে সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
- পশুখাদ্য: পাতা ও ফল গরু, ছাগল, ভেড়ার মতো গবাদিপশুর জন্য উপযোগী পুষ্টিকর খাবার।
- মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন: ইপিল ইপিল নাইট্রোজেন স্থিরকারী উদ্ভিদ হওয়ায় এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
জমি নির্বাচন ও প্রস্তুতি
সুনিষ্কাশিত উঁচু জমিতে এই গাছ ভাল হয়। এটা কিছুটা লবনাক্ত এবং ক্ষারীয় মাটিতেও হতে পারে। তবে অধিক লবনাক্ত, এসিডীয় এবং জলাবদ্ধ মাটিতে হয় না।
জমি প্রস্তুতি
জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে সমান করে আগাছা মুক্ত করতে হবে।
ইপিল ইপিল গাছের বংশবিস্তার পদ্ধতি
বীজের মাধ্যমে এই গাছ বংশবিস্তার করে। সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পরিপক্ব ফল সংগ্রহ করে বীজ আলাদা করে নেওয়া হয়। এরপর ২-৩ দিন রোদে শুকিয়ে বীজ সংরক্ষণ করা যায়। মার্চ -এপ্রিল মাসে বীজ বপণ করতে হবে। বীজ বপণের পূর্বে ৪৮ ঘন্টা ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। অত:পর পলিব্যাগে বা সরাসরি জমিতে বীজ বপণ করতে হবে। বপনের ৪-৫ দিন পরেই বীজ হতে চারা গজায়।
রোপণ পদ্ধতি
লাইন বা বর্গাকার পদ্ধতিতে চারা রোপণ করতে হবে।
রোপণের সময়
জুলাই-আগষ্ট মাসে চারা রোপণ করতে হবে।
রোপণের দূরত্ব
১) জ্বালানির জন্য ১-২ মিটার।
২) কাঠের জন্য ৩-৪ মিটার।
গর্ত তৈরী
গর্তের আকার ৫০ সে.মি. x ৫০সে.মি. x ৫০সে.মি.।
গর্তে সার প্রয়োগ (প্রতি গর্ত)
চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পূর্বে গর্তের মাটির সাথে নিম্নলিখিত হারে সার মিশিয়ে রাখতে হবে-
সারের নাম | পরিমাণ |
জৈব সার | ১০-১৫ কেজি |
ছাই | ১-২ কেজি |
ইউরিয়া | ৪০-৫০ গ্রাম |
টিএস পি | ১০০-২০০ গ্রাম |
এমওপি | ৫০-১০০ গ্রাম |
চারা রোপণ
৩-৪ মাস বয়সের চারা রোপণ করতে হবে।
ইপিল ইপিল গাছে সার প্রয়োগ
সারের নাম | গাছের বয়স (গ্রাম/গাছ) | ||||
২ বছরের কম | ২-৪ বছর | ৪-৬ বছর | ৬-১০ বছর | ১০ বছরের বেশি | |
জৈব সার | ৩৭৫ | ৫২৫ | ৭৫০ | ৭৫০ | ৭৫০ |
ছাই | ২৫ | ৩৫ | ৫০ | ৫০ | ৫০ |
ইউরিয়া | ২৫ | ৩৫ | ৫০ | ৫০ | ৫০ |
টিএসপি | ৫০ | ৭০ | ১০০ | ১০০ | ১০০ |
এমওপি | ২৫ | ৩৫ | ৫০ | ৫০ | ৫০ |
উক্ত সার সমূহ মিশ্রিত করে ছয় মাস পর পর প্রতি গাছে প্রয়োগ করতে হবে। গাছের বৃদ্ধি কম হলে টিএসপি ও এমওপির পরিমাণ কমিয়ে ইউরিয়া বাড়িয়ে দিতে হবে।
সেচ ও পানি নিষ্কাশন
এই গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, তাই গাছের গোড়ায় যাতে পানি জমে থাকতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে, বিশেষ করে প্রথম দুই বছর গাছের বৃদ্ধির জন্য।
ইপিল ইপিল গাছের ডাল ছাঁটাই
গাছের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে শুকনো ও মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে । এটি গাছের শাখা-প্রশাখা গঠনে সহায়ক এবং আলো-বাতাস প্রবাহ বাড়ায়।
অন্যান্য পরিচর্যা
- গাছের গোড়ায় নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
- চারার গোড়ায় খুঁটি বেঁধে দিতে হবে যাতে বাতাসে নড়ে না যায়।
- চারার চারপাশে বেড়া দিতে হবে যাতে গবাদিপশুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।
রোগবালাই
সাধারণত এই গাছে গুরুতর কোনো রোগ হয় না।
পোকামাকড়
কিছু নির্দিষ্ট পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারে:
পোকার নাম | ক্ষতির ধরন | প্রতিকার |
সাইলিড পোকা (Psyllid) | ১) কচি পাতা, কান্ড, কুঁড়ি ইত্যাদি থেকে রস শুষে নেয়, এতে পাতা এবং কচি অংশসমূহ হলুদ হয়ে কুঁকড়ে যায় এবং শুকিয়ে যায়। ফলে গাছ দুর্বল হয়ে যায় এবং এক সময় মারা যায়। ২) এ পোকা এক ধরনের মিষ্টি পদার্থ নি:সৃত করে যার ফলে ছত্রাকের আক্রমনও ঘটে। | ১) সাইলিড প্রতিরোধক জাত রোপণ করা যেতে পারে। ২) মাকড়সা, ড্রাগন ফ্লাই ইত্যাদি পোকার প্রাক্রতিক শত্রু ব্যবহার করতে হবে। ৩) ম্যালাথিয়ন—৫৭ ইসি প্রতি ১০ লি. পানিতে ১৫ মি.লি. হারে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। |
বীজ এর উইভিল (Seed weevil) | ১) বীজকে মাঠে এবং গুদামে আক্রমন করে। আক্রমনের ফলে বীজ অপরিপক্ক অবস্থায় ঝরে যায় এবং অংকুরোদগম হয় না। ২) কাঁচা ফলে আক্রমন বেশী হয় যা ফলের গায়ে দাগ এবং ছিদ্র দ্বারা বুঝা যায়। ৩) লাভার্ সাধারণত: গুদামজাত বীজের ভেতরের শাঁস খেয়ে ফেলে এবং ছিদ্র করে দেয়। বীজ এর মধ্যে পিউপা তৈরী করে এবং পরবতীর্তে পূর্ণ বয়স্ক পোকা ছিদ্রপথে বীজ থেকে বেরিয়ে আসে। | ১) আক্রমন শুরু হওয়ার পূর্বেই বীজ সংগ্রহ করে ব্যাগে ভরে ফেলতে হবে। ২) স্বাস্থ্যবান বীজ সংগ্রহ করতে হবে এবং ভালোভাবে শুকিয়ে পুনরায় ঠান্ডা করে গুদামজাত করতে হবে। ৩) আক্রমন দেখা দিলে সিষ্টেমিক বালাইনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। ৪) গুদামজাত অবস্থায় আক্রমন দেখা দিলে ফস্টোক্সিন দ্বারা ধুমায়িত করে ভালো ফল পাওয়া যায়। |
ফসল সংগ্রহ ও ব্যবহারের সময়
সাধারণত রোপণের ১৮-২৪ মাস পর গাছ থেকে কাঠ ও পাতা সংগ্রহ উপযোগী হয়। চাহিদা অনুযায়ী শাখা কেটে পুনরায় চাষের সুযোগ রয়েছে। গাছ নিয়মিত ছাঁটাই করলে উৎপাদন বাড়ে এবং কাঠের মান ভালো থাকে।
ইপিল ইপিল চাষের আর্থিক দিক
এটি একটি স্বল্প ব্যয়বহুল এবং বহুমুখী সুবিধাযুক্ত গাছ। একবার চাষ করলে ১৫-২০ বছর পর্যন্ত উৎপাদন চলতে পারে। কাঠ বিক্রি, পশুখাদ্য বিক্রি, সবুজ সার বিক্রির মাধ্যমে কৃষকরা আয় বাড়াতে পারে।
উপসংহার
ইপিল ইপিল একটি পরিবেশবান্ধব, উৎপাদনশীল ও লাভজনক গাছ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেখানে জ্বালানি কাঠ, পশুখাদ্য ও সবুজ সার সবসময় চাহিদায় থাকে, সেখানে এই গাছ চাষ কৃষকদের জন্য টেকসই সমাধান হতে পারে। সামান্য পরিচর্যা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এই গাছ থেকে পাওয়া যাবে বহু বছর ধরে উপকার।
ইপিল ইপিল চাষ পদ্ধতি সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ন প্রশ্নোত্তর (FAQ)
ইপিল ইপিল গাছ কী এবং এর বৈজ্ঞানিক পরিচিতি কী?
ইপিল ইপিল একটি দ্রুত বর্ধনশীল, চিরহরিৎ, বহুবর্ষজীবী এবং গভীরমূলী বৃক্ষ। সাধারণত এটি ৩ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছের ফুল সাদা বা হালকা হলুদ এবং ফল হয় লম্বাটে বাদামি রঙের চ্যাপ্টা পড, যেখানে ৮-১৮টি শক্ত বীজ থাকে।
- ইংরেজি নাম: Leucaena
- বৈজ্ঞানিক নাম: Leucaena leucocephala
- পরিবার: Leguminosae
এই গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি নাইট্রোজেন স্থিরকারী উদ্ভিদ হিসেবে মাটির উর্বরতা বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে কৃষি জমিতে টেকসই উৎপাদনে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ইপিল ইপিল গাছের প্রধান ব্যবহার কী কী?
ইপিল ইপিল গাছ একটি বহুমুখী সম্পদ। এর ব্যবহার ক্ষেত্রগুলো হলো:
- জ্বালানি কাঠ: এর ডালপালা দ্রুত শুকায় ও উচ্চ তাপ উৎপাদন করে, ফলে রান্নার কাজে চমৎকার জ্বালানি।
- কাঠ ও কৃষি যন্ত্রপাতি: শক্ত কাঠ কৃষি যন্ত্রপাতির হাতল ও খুঁটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- সবুজ সার: কচি ডাল ও পাতা মাটিতে মিশিয়ে সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যা মাটির জৈব উর্বরতা বাড়ায়।
- পশুখাদ্য: এর পাতা ও ফল গবাদিপশুর জন্য পুষ্টিকর খাবার।
- মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন: নাইট্রোজেন ফিক্সেশন ক্ষমতার কারণে মাটিকে উর্বর রাখে।
ইপিল ইপিল চাষের জন্য জমি কেমন হওয়া উচিত?
এই গাছ চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো জমি হলো উঁচু এবং সুনিষ্কাশিত জমি। এটি কিছুটা লবণাক্ত বা ক্ষারীয় মাটিতে হলেও ভালো জন্মে। তবে নিচের জমিতে এ গাছ চাষ করা উচিত নয়:
- অধিক লবণাক্ত মাটি
- এসিডীয় মাটি
- জলাবদ্ধ জমি
সঠিক জমি নির্বাচন করলে গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং উৎপাদনও বেশি পাওয়া যায়।
ইপিল ইপিলের বংশবিস্তার ও চারা তৈরির পদ্ধতি কী?
এই গাছ মূলত বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
- বীজ সংগ্রহ: অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পরিপক্ব ফল সংগ্রহ করে ২-৩ দিন রোদে শুকিয়ে বীজ রাখা হয়।
- বপন: মার্চ-এপ্রিল মাসে বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপণের আগে ৪৮ ঘণ্টা ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখা প্রয়োজন।
- চারা উৎপাদন: বীজ সরাসরি জমিতে বা পলিব্যাগে বপন করা যায়। সাধারণত ৪-৫ দিনের মধ্যেই বীজ অঙ্কুরিত হয়।
৩-৪ মাস বয়সী চারা রোপণের জন্য উপযুক্ত।
ইপিল ইপিল চারা রোপণের সময়, দূরত্ব ও গর্ত তৈরির নিয়ম কী?
- রোপণের সময়: জুলাই-আগস্ট মাসে চারা রোপণ সবচেয়ে ভালো।
- দূরত্ব:
- জ্বালানি কাঠ উৎপাদনের জন্য ১-২ মিটার।
- কাঠ উৎপাদনের জন্য ৩-৪ মিটার।
- গর্তের আকার: ৫০ সে.মি. × ৫০ সে.মি. × ৫০ সে.মি.।
- গর্তে সার প্রয়োগ: প্রতি গর্তে ১০-১৫ কেজি জৈব সার, ১-২ কেজি ছাই, ৪০-৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০০-২০০ গ্রাম টিএসপি এবং ৫০-১০০ গ্রাম এমওপি মাটির সাথে মিশিয়ে রাখতে হয়।
ইপিল ইপিল গাছে সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা কেমন হওয়া উচিত?
গাছের বয়স অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ:
- জৈব সার: ৩৭৫-৭৫০ গ্রাম
- ছাই: ২৫-৫০ গ্রাম
- ইউরিয়া: ২৫-৫০ গ্রাম
- টিএসপি: ৫০-১০০ গ্রাম
- এমওপি: ২৫-৫০ গ্রাম
প্রতি ৬ মাস অন্তর এই সার মিশ্রণ প্রয়োগ করতে হয়।
- সেচ: গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকা যাবে না। শুষ্ক মৌসুমে সেচ দেওয়া জরুরি, বিশেষত প্রথম দুই বছর।
ইপিল ইপিল গাছের পরিচর্যা কিভাবে করতে হবে?
পরিচর্যার মধ্যে রয়েছে:
- মরা ও শুকনো ডাল ছেঁটে ফেলা।
- গাছের গোড়ায় আগাছা পরিষ্কার রাখা।
- চারার পাশে খুঁটি বেঁধে দেওয়া যাতে বাতাসে নড়াচড়া না হয়।
- চারার চারপাশে বেড়া দেওয়া যাতে গবাদিপশুর ক্ষতি না হয়।
এভাবে নিয়মিত পরিচর্যা করলে গাছ দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়ে ওঠে।
ইপিল ইপিল গাছে রোগবালাই বা পোকামাকড়ের সমস্যা হয় কি?
সাধারণত এই গাছে গুরুতর কোনো রোগ হয় না। তবে কিছু পোকামাকড় সমস্যা করতে পারে:
- সাইলিড পোকা: কচি পাতা ও কান্ডের রস শুষে নেয়। প্রতিকার হিসেবে প্রাকৃতিক শত্রু ব্যবহার এবং ম্যালাথিয়ন স্প্রে করা যায়।
- বীজ উইভিল: বীজের ভেতরের শাঁস খেয়ে নষ্ট করে। প্রতিকার হিসেবে স্বাস্থ্যবান বীজ সংগ্রহ, সঠিকভাবে শুকানো ও প্রয়োজনে ফস্টোক্সিন দিয়ে ধুমায়িত করা হয়।
ইপিল ইপিল গাছ থেকে কবে ফসল সংগ্রহ করা যায়?
সাধারণত রোপণের ১৮-২৪ মাস পর গাছ থেকে কাঠ ও পাতা সংগ্রহ করা যায়। গাছ নিয়মিত ছাঁটাই করলে উৎপাদন আরও বাড়ে এবং কাঠের মানও উন্নত হয়। একবার রোপণের পর প্রায় ১৫-২০ বছর পর্যন্ত এ গাছ থেকে সুবিধা পাওয়া যায়।
ইপিল ইপিল চাষে আর্থিক লাভ কেমন?
ইপিল ইপিল চাষ একটি স্বল্প ব্যয়বহুল এবং লাভজনক উদ্যোগ।
- কাঠ বিক্রি করে আয় করা যায়।
- পশুখাদ্য ও সবুজ সার বিক্রি থেকে বাড়তি আয় হয়।
- একবার চাষ করলে বহু বছর ধরে উৎপাদন পাওয়া যায়।
ফলে এটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য টেকসই আয় বৃদ্ধির অন্যতম উপায়।